নগদবিহীন লেনদেন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে চালু হলেও জনপ্রিয় হচ্ছে না বাংলা কিউআর

দেশে নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে ২০২১ সালে চালু হয়েছিল বাংলা কিউআর।

দেশে নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে ২০২১ সালে চালু হয়েছিল বাংলা কিউআর। দেশে আর্থিক সেবা দানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর (কুইক রেসপন্স) ব্যবস্থা থাকলেও একটি মাত্র কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) ও পেমেন্ট সেবাদাতাদের মধ্যে আন্তঃলেনদেন সহজ করতে এ সেবা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পরিষেবা চালুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জনপ্রিয়তা পায়নি বাংলা কিউআর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, কিউআরভিত্তিক মোট লেনদেনের মাত্র ১০-১৫ শতাংশ হয় বাংলা কিউআরের মাধ্যমে। বাকি ৮৫-৯০ শতাংশ লেনদেনই হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্লাটফর্মে।

দেশে দুই ধরনের প্লাটফর্মে কিউআরভিত্তিক লেনদেন পরিচালিত হয়। একটি ইন্টারনেট ব্যাংকিংভিত্তিক কিউআর, আরেকটি এমএফএসভিত্তিক। কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের পরিস্থিতি নিয়ে সবশেষ গত বছরের নভেম্বরের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইন্টারনেট ও এমএফএসের মাধ্যমে সে মাসে দেশে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন হয়েছে ৬১৭ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে যার হিস্যা মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ মাত্র।

শুধু নভেম্বরেই নয়, এর আগের মাসের চিত্রগুলোও প্রায় কাছাকাছি। গত বছরের অক্টোবরে দেশে কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ৬৫৮ কোটি বা ১৫ দশমিক ১ শতাংশ টাকা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলা কিউআর। আর গত সেপ্টেম্বরে দেশে কিউআরভিত্তিক লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ৪৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে।

বাংলা কিউআর প্রকল্পটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া হলেও নগদবিহীন লেনদেনের প্রবাহ বাড়াতে এ প্রকল্পের ওপর শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। একাধিক অনুষ্ঠানেও তিনি বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আগের চক্রেই আটকে আছে প্রকল্পটি। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বাংলা কিউআরকে নানাভাবে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেও আমরা সফল হইনি। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা নিয়মিত বাংলা কিউআর ও নগদবিহীন লেনদেনের প্রচার করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে ১৩টি জেলায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করেছি, যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষক, পেশাজীবী, ছাত্রসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষকে যুক্ত করা হয়েছে।’

কিউআর কোড ব্যবহারে এক থেকে দেড় শতাংশ পর্যন্ত চার্জ প্রদান করতে হয় ব্যবসায়ীদের। বাংলা কিউআর জনপ্রিয় না হওয়ার পেছনে এ বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ করেছেন, কিউআর ব্যবহারে প্রায় দেড় শতাংশ পর্যন্ত চার্জ তাদের জন্য বোঝা হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। বাংলা কিউআরের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা যায় কিনা বা প্রণোদনা দেয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত নগদবিহীন লেনদেনের দিকে নিয়ে যাওয়া।’

আরও